বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তরুণদের জায়গা দিতে হবে: জাতিসংঘ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

তরুণদের শুধু সুযোগের সুবিধাভোগী বা মতামতদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, রাষ্ট্র ও সমাজের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলেও যথাযথ জায়গা দিতে হবে। তাদের অংশগ্রহণকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রকৃত নেতৃত্বে রূপ দিতে হবে। সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দাবি জানানোর পাশাপাশি সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বও তরুণ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে—এমন জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড.

বর্তমান বিশ্বে শান্তি, অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যুবসমাজ তাদের মেধা ও মননের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। অতীতে দেখা গেছে, দেশের সংকটময় মুহূর্তে তরুণরাই পরিবর্তনের অগ্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই বাস্তবতায়, কেবল তাদের মতামত নেওয়া বা আশ্বস্ত করার সময় ফুরিয়ে এসেছে। নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায় না। অনেক সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে তরুণরা মূল স্রোত থেকে দূরে সরে থাকতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তরুণদের কণ্ঠস্বর জোরপূর্বক দমন করা হয়েছিল এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ বিভিন্ন ন্যায্য দাবির সময় শিক্ষার্থীদের ওপর নজিরবিহীন দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের মেধা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দমনপীড়ন ও বৈষম্যের নীতি তরুণ সমাজকে সবসময়ই বিক্ষুব্ধ রেখেছিল। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে তরুণরাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সেই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে এখন তারুণ্যের জয়যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির এই আহ্বান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, এটি ভবিষ্যতের একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পৃথিবী গড়ে তোলার রূপরেখা। নীতিনির্ধারকদের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে তরুণদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সুগম করা, যাতে তারা দেশের ভাগ্য উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD