বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার তীব্র হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমকে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে কোনো ধরনের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বা অন্যান্য বিমানবন্দর সেবা প্রদান করা হলে, সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এই কঠোর সতর্কবার্তার ফলে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল খাতে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পদক্ষেপে ইরানের বিমান পরিবহন খাত বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান যে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে ইরানের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ও হুঁশিয়ারি কার্যকর করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এই নীতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলো এখন বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দোলাচলে পড়েছে। কারণ, একদিকে ইরানি বিমানকে সেবা দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়গ নামবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক নিয়ম বজায় রাখার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈষম্যমূলক ও আধিপত্যবাদী আচরণের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে ব্যবহার করে এভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক খাতকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রক্রিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক