পেট্রোল, ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ বরিশালে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। গত রোববার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে আকস্মিক তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর থেকেই পুরো জেলাজুড়ে জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাধারণ নেটিজেনরা অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির পক্ষ থেকে এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে এবং জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গণপরিবহন খাত এবং কৃষির ওপর। ইতোমধ্যে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি ভাড়াল বাড়ানোর কথা ভাবতে শুরু করেছে, যা নিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ধকল আসবে। এর ফলে সবকিছুর দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বারবার অযৌক্তিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটা হয়েছিল, যার মূল্য় আজও দেশের অর্থনীতিকে বহন করতে হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ মনে করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবিলম্বে এই হটকারী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, অন্যথায় দেশজুড়ে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক