ই-মেইল, ফেসবুক, অনলাইন ব্যাংকিং, শপিং, কিংবা কোনো অ্যাপ—ইন্টারনেটের প্রায় প্রতিটি জায়গায় প্রবেশ করতে আমাদের একটি নির্দিষ্ট পরিচয় দরকার হয়। এতদিন সেই পরিচয়ের সবচেয়ে পরিচিত এবং প্রধান চাবি ছিল পাসওয়ার্ড। কখনো বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে অত্যন্ত জটিল পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হয়েছে ব্যবহারকারীদের। আবার সুরক্ষার স্বার্থে তা নিয়মিত পরিবর্তন করার ঝামেলা তো ছিলই। তবে প্রযুক্তির বিবর্তনে সাইবার নিরাপত্তার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে এবার পাসওয়ার্ডের দিন শেষ হতে চলেছে এবং এর জায়গা দখল করছে পাসকি।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাসওয়ার্ড মনে রাখা এবং তা সুরক্ষিত রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় সাধারণ মানুষ হ্যাকিংয়ের শিকার হন দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যই প্রযুক্তি বিশ্বে পাসকির জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাসকি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড টাইপ না করেই বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক কিংবা পিন কোডের মাধ্যমে অত্যন্ত নিরাপদে বিভিন্ন সেবা ও অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারছেন।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাসকি পাসওয়ার্ডের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এবং এটি ফিশিং বা হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে তাদের সিস্টেমে পাসকি যুক্ত করা শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আধুনিক প্রযুক্তি আগামী দিনে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থার পুরোপুরি স্থলাভিষিক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক