বিপ্লবী কবি গুলাম আহমদ মাহজুর, যিনি শায়ের-এ-কাশ্মীর বা কাশ্মীরের কবি নামে সুপরিচিত, ১৮৮৭ সালের ১ আগস্ট কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার মিত্রিগাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কাশ্মীরি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবি মাহজুর এক বিশেষ ও মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত। তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম কাশ্মীরি জনগণের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাশ্মীরি কবিদের মধ্যে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছেন বিশেষ কিছু ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক অবদানের জন্য।
প্রথমত, তিনি কাশ্মীরি কবিতায় আধুনিক চেতনার সূচনা করেছিলেন এবং সাধারণ মানুষের ভাষা ও আবেগকে কাব্যের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর লেখনীতে কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং মুক্তির আকূতিরও এক নিখুঁত প্রতিফলন ঘটেছে। তৎকালীন সমাজব্যবস্থার নানা বৈষম্যের বিরুদ্ধে তার কবিতা সবসময় এক অনন্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন যে, গুলাম আহমদ মাহজুরের সাহিত্যিক উত্তরাধিকার কেবল একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমগ্র উপত্যকার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর কবিতা ও গান আজও কাশ্মীরের ঘরে ঘরে মানুষের মুখে মুখে ফেরে এবং তরুণ প্রজন্মকে তাদের শেকড়ের সন্ধান দেয়। তাঁর জীবনদর্শন এবং বিপ্লবী চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
গণমাধ্যমকে জানান যে, মাহজুরের জন্মবার্ষিকী এবং মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতি বছর উপত্যকাজুড়ে নানা অনুষ্ঠান পালিত হয়, যা প্রমাণ করে যে কাশ্মীরি জাতির মানসপটে এই ক্লাসিক কবির প্রভাব আজও অমলিন। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিয়মিত বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর আদর্শ ও সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক