গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার হিমালয়ে হঠাৎ বিশাল বরফ ও পাথরের স্তর ধসে পড়ে। মুহূর্তেই লেন্দে খোলা নদীতে নেমে আসে পানি, কাদা ও পাথরের ভয়াবহ স্রোত। সেই স্রোত উপত্যকা ভাসিয়ে নেপাল-চীন সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এটি ছিল একের পর এক বিপর্যয়ের শুরু। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপাল ও এর আশেপাশের অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ অব্যাহত থাকে, যা স্থানীয় জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের এই হঠাৎ ধস এবং এর ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা বিজ্ঞানীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের বিপর্যয় বারবার ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
তবে এই ঘটনার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা নিয়ে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের যুগেও কেন এমন একটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঠিক পূর্বভাস পাওয়া গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবিদরা। নেপাল সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং কার্যকর আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র নেপাল নয়, সমগ্র হিমালয় অঞ্চলের ইকোসিস্টেম আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এ ধরনের বিপর্যয় আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই বিশাল প্রাকৃতিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক