কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদ আহাম্মদকে তার চাকরি নিয়ে টান দেওয়ার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। আবদুল্লাহ আল নোমান নামে অভিযুক্ত ওই নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ হুমকি প্রদান করেন, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মনোহরগঞ্জ থানার ওসির পেশাগত দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি তার চাকরিচ্যুত করার প্রকাশ্য হুমকি দেন। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের নজরে এলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এ ধরনের হুমকি কেবল পুলিশ প্রশাসনের মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা নয়, বরং সমাজবিরুদ্ধ ও অপরাধমূলক কার্যক্রমকে টিকিয়ে রাখার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীরা এখনো রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংবাদকর্মীদের জানান সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের হুমকিদাতাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক