কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রবি মৌসুমে চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ শত শত কৃষক আবারও সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেছেন। কৃষকদের এই আন্দোলন ও ক্ষোভের মুখে স্থানীয় কৃষি খাত ও সরবরাহ ব্যবস্থার চরম চিত্র ফুটে উঠেছে। তীব্র শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকরা দলে দলে নাগেশ্বরী কচাকাটা মহাসড়কে জড়ো হন এবং তাদের বোরো আবাদের প্রধান হাতিয়ার ইউরিয়া ও টিএসপি সারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় তারা সারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাচ্ছেন না, অথচ কালোবাজারে চড়া দামে সার বিক্রি চলছে অবাধে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় এবং দ্রুত সার সরবরাহের আশ্বাসের পর কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অব্যবস্থাপনার পেছনে বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের সিন্ডিকেট এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ চক্রের মদদপুষ্ট কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জড়িত রয়েছে। কৃষকদের এই ন্যায্য আন্দোলন গ্রামীণ অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থাকেই ফুটিয়ে তোলে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলো যেমন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও সার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিংয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক