বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ নানা অভিযোগ তুলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা বলছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা। মূলত এই অজুহাতে সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনাসহ নানা ধরনের নীতিগত সহায়তা আদায় করে নিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। তবে ব্যবসায়ীদের এই দাবির বাস্তব চিত্রের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পরিসংখ্যানে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের সমুদ্র ও স্থলবন্দরগুলোর পণ্য আসা-যাওয়ার হিসাব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমসের রাজস্ব আদায় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। রপ্তানি আদায়ে যেমন গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তেমনি কাস্টমস হাউজগুলোর রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীদের একাংশ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা বাধা পেরিয়েও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এদিকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক এই অগ্রগতি বজায় রাখতে সরকারের নীতিনির্ধারকরাও বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং বাণিজ্যের গতিশীলতা রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতি আরও বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক