চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় ভাইভায় বিশেষ নম্বর দিয়ে কাউকে পাস করিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই আগামী দিনে সকল সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির বিন্দুমাত্র সুযোগ রাখা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী মেধার মূল্যায়নই হচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহকে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে কোনো প্রার্থীই বঞ্চনার শিকার না হন। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে চাকরির বাজারে যে নৈরাজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং দলীয়করণের সংস্কৃতি চালু ছিল, বর্তমান প্রশাসন তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। বিগত দিনে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-নেতারা নিজেদের পছন্দের লোকজনকে অবৈধ উপায়ে চাকরির সুযোগ করে দিত, যা আজকের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, দেশের তরুণ সমাজ দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। যুব সমাজের মেধার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই কেবল দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। তাই মৌখিক পরীক্ষার মতো সংবেদনশীল জায়গায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সদস্যদের ওপরও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের জনমুখী ও মেধাভিত্তিক পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক