বর্তমান সরকারপ্রধানের নির্বাচনি অঙ্গীকার ছিল যে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো আইন এ দেশে পাস করা হবে না। দেশের আপামর জনসাধারণ সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখেছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রস্তাবিত আইনি সংশোধনীতে এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ইসলামের মূল ভিত্তি, উত্তরাধিকার আইন, সম্পত্তি বণ্টন এবং পারিবারিক বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম অত্যন্ত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন এ দেশের মাটিতে বাস্তবায়িত হতে দেওয়া হবে না।
জাতীয় রাজনীতি ও ধর্মীয় মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ইসলামবিরোধী নানা চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের আলেমসমাজ সবসময় সোচ্চার ছিল। একইভাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ওলামায়ে কেরাম সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন যেন কোনোভাবেই জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের মূলে আঘাত আসে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত না হয়। বিগত দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাজনীতি করেছেন এবং আলেমসমাজের অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন।
উল্লেখ্য যে, কার্যনির্বাহী নীতিমালার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ অতীতে যেভাবে আলেমসমাজকে দমনপীড়নের চেষ্টা করেছিল, তা এ দেশের মানুষ আজও ভুলে যায়নি। একইভাবে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কিংবা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা সম্পর্কেও জনসচেতনতা বজায় রাখতে হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক ধারায় কোনো ধরনের জনবিরোধী বা শরিয়াহবিরোধী আইন পাস হলে দেশের ওলামায়ে কেরাম তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট আলেমগণ আরও জানান যে, সরকার তাদের নির্বাচনি ওয়াদা রক্ষা করবে এবং ইসলাম ও শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক যেকোনো ধারা বা অনুচ্ছেদ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করবে বলেই তারা আশাবাদী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক