চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে রাস্তার ওপর ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে এক অপ্রীতিকর ও নৃশংস সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি মহলের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাস্তার ওপর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার তীব্র প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই আকস্মিক হামলায় নারীসহ অন্তত চারজন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে নতুনপাড়ার প্রধান রাস্তার ওপর ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিলেন। এতে করে ওই এলাকায় পরিবেশ দূষণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবাদী মানুষ এর যৌক্তিক প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিবাদকারীদের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে চারজনকে জখম করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে আহতদের মধ্যে দুপক্ষের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা গণমাধ্যমকে জানান। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোনো বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুরো নতুনপাড়া গ্রামে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক