চারদিকে শিল্পের কোলাহল, ভারী যানবাহনের শব্দ আর উন্নয়নের বিস্তার। এর মাঝেই বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় সাত হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন। কেওড়া, বাইন ও গেওয়ার ঘন সবুজের আড়ালে ছুটে বেড়াচ্ছে হরিণের পাল, গাছের ডালে বানরের লাফালাফি, আকাশে উড়ছে নানা প্রজাতির পাখি। জোয়ারে ডুবে যাওয়া এই বন এখন বন্যপ্রাণীর এক নিরাপদ আবাসে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই জনপদকে রক্ষা করার। সাম্প্রতিক সময়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ ও বনাঞ্চল ধ্বংসের চক্রান্ত হয়েছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পরিবেশ রক্ষার নামে নানা অনিয়ম ও লুটপাট চলেছে। সেই দুঃসময় পেরিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এই বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে ইকো-ট্যুরিজম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা যেন বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারির মাধ্যমে এই ম্যানগ্রোভ বনকে দেশের অন্যতম প্রধান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক