বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মানচিত্রে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয়েও মুসলমানরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের স্বকীয় এক জগৎ। কোথাও তারা শত শত বছরের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক, আবার কোথাও আধুনিক অভিবাসনের ফলে গড়ে উঠেছে এক গতিশীল মুসলিম সমাজ। বর্তমান বৈশ্বিক জনমিতি ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়, যদিও তারা সামগ্রিক জনসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যালঘু।
সাংবাদিকদের বলেছেন, আধুনিক বিশ্বে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ধারায় অমুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কিছু দেশ রয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মুসলিম নাগরিক বসবাস করেন এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রেও মুসলমানদের এই উপস্থিতি অত্যন্ত দৃশ্যমান।
গণমাধ্যমকে জানান, এই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়ার মতো রাষ্ট্রগুলোর কিছু অংশ বা সার্বিক জনমিতি। এসব দেশের ভূখণ্ডে হাজার বছর ধরে ইসলামের শেকড় প্রোথিত রয়েছে অথবা সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বৈশ্বিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটেছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও সংস্কৃতির মানচিত্রে এই দেশগুলোর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অমুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী এই বিপুল সংখ্যক মুসলমান শুধু সংখ্যায় নয়, বরং তাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক অবদানের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় বিশ্ব গঠনে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাদের এই সহাবস্থান ও আত্মপ্রকাশ বিশ্বজুড়ে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি এবং বহুত্ববাদী সমাজের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক