সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে মশকরা করেছেন- এমন অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পিকারের এ আচরণকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং অত্যন্ত হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার সময় বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে বিরোধী পক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় এই অভিযোগ তুললেন নাহিদ ইসলাম।
সাংবাদিকদের বলেছেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো বিরোধী দলের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সংসদের কার্যপ্রণালীতে সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে প্রায়শই। স্পিকারের আসন থেকে যেভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও সংসদীয় চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং কার্যকর বিরোধী দলকে দমন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সেই স্বৈরাচারী পতনের পরও সংসদীয় আচরণে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং জাতীয় স্বার্থে সংসদে খোলামেলা আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। স্পিকার যদি নিজেই পক্ষপাতমূলক আচরণ করেন, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা সংসদের প্রতি দিন দিন কমতে থাকবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও স্পিকারের এমন বৈষম্যমূলক আচরণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে দুর্বল করে তুলছে। অবিলম্বে এই পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব থেকে সরে এসে স্পিকারকে আরও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় বিরোধী দল দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই চিফ হুইপ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক