জাতীয় সংসদে আরও ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন এবং ১টি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে ঘোষিত এই নতুন কমিটিগুলোর কোনটিতেই সভাপতি পদ দেওয়া হয়নি বিরোধী দলের কোনো সদস্যকে। সাম্প্রতিক সংসদীয় কার্যক্রমে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটিগুলো দেশের সার্বিক নীত নির্ধারণী ও মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এবং সংসদীয় কমিটিতে তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও নতুন গঠিত কমিটিগুলোতে তার ব্যত্যয় দেখা গেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বদলসহ সামগ্রিক কমিটি বিন্যাসে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের কৃষি খাতের উন্নয়ন ও কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এই কমিটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর তদারকির জন্যও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও বেশি কার্যকর এবং স্বচ্ছ করতে বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সংসদীয় কমিটিতে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মত দিয়ে আসছেন।
সংসদীয় গণতন্ত্রের সুস্থ ধারা বজায় রাখতে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিগুলোর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। যদিও এবারের কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশের সচেতন মহলের। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি সংসদীয় ব্যবস্থাকে আরও বেশি গতিশীল করে তুলতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক