ব্যাংক থেকে মাত্র দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে কিস্তি পরিশোধে সামান্য দেরি হলেই সাধারণ গ্রাহকের মোবাইলফোনে নিয়মিত এসএমএস পাঠানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা মামলা পর্যন্ত করা হয়। অথচ দেশের ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বছরের পর বছর তা পরিশোধ না করা অনেক প্রভাবশালী বড় ঋণখেলাপি উল্টো নানা ধরনের নীতিগত সুবিধা ও ছাড় পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশে এই বৈষম্যমূলক আচরণ ও অভিযোগ অত্যন্ত দীর্ঘদিনের এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা ব্যাংক খাতের ভিত্তিকে চরমভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে। সাধারণ ঋণগ্রহীতারা কঠোর নিয়মের বেড়াজালে পিষ্ট হলেও বড় ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে নিয়মের শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংস্কৃতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণ বিতরণে যেমন স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তেমনি খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাও এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক