১৭শে জুন ১৬৩১ সাল। দাক্ষিণাত্যে অর্থাৎ দক্ষিণ ভারতে মুঘলদের প্রধান কেন্দ্র বুরহানপুরে তখন তীব্র গরম বিরাজ করছিল। পঞ্চম মুঘল সম্রাট শাহজাহানের প্রিয় সম্রাজ্ঞী মমতাজ মহল সেই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে ১৪তম বারের মতো প্রসববেদনা সহ্য করছিলেন। সম্রাট শাহজাহানের সাথে এই রাজ দম্পতির ১৯ বছরের দাম্পত্য জীবনে তখন পর্যন্ত ১৩টি সন্তানের জন্ম হয়েছিল এবং এই ১৪তম সন্তান প্রসবের সময়ই মমতাজ মহল মারা যান। ঐতিহাসিক এই ঘটনাটি তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এনেছিল।
মমতাজ মহলের আকস্মিক মৃত্যুতে সম্রাট শাহজাহান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এক অমর সৃষ্টি হিসেবে তাজমহল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই ঐতিহাসিক স্থাপত্য কেবল মুঘল আমলের শিল্প ও সংস্কৃতির উৎকর্ষই নয়, বরং এটি মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রেম ও বেদনার অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। পরবর্তীতে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন শাসকের উত্থান-পতন ঘটলেও তাজমহলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও অমলিন রয়েছে। একসময় এই উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা থাকলেও ঐতিহাসিক পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকে তাজমহলের আকর্ষণ সবসময়ই অটুট রয়েছে।
বর্তমান সময়েও ঐতিহাসিক এই স্থানটি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, সম্রাট শাহজাহানের এই অমর সৃষ্টি কেবল ভালোবাসার প্রতীকই নয়, এটি তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ও শৈল্পিক সামর্থ্যেরও এক বড় প্রমাণ। যুগের পর যুগ ধরে এই স্থাপনাটি বিশ্ববাসীর কাছে মুঘল আমলের স্থাপত্যকলার এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত লাভ করে আসছে এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে গবেষকদের আগ্রহ এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক