হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। সোমবার রাতের এই আকস্মিক হামলায় জাহাজটিতে থাকা ফিলিপিনো দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলসীমায় এই ধরনের হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সৌদি শিপিং কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে জানান যে, তেলবাহী ট্যাংকারটি আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করার সময় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে জাহাজটির একাংশে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয় এবং অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করে। নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর হরমুজ প্রণালি ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো নানা ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এর আগে গত কয়েক বছরে এই জলসীমায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিতই উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক