যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে তীব্র বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও এনএইচএসের স্বাস্থ্য বোর্ড অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের নিজস্ব কেয়ার ফান্ড ব্যবহার করে বিদেশে ব্যক্তিগত সহকারী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে একই ধরনের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সাধারণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবন্ধী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের নীতি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক মানবাধিকার এবং চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী। অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, যা ছাড়া তাদের পক্ষে ভ্রমণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ তহবিল বরাদ্দের জটিলতার অজুহাতে তাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এই বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং দ্রুত নীতিগত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। বিদেশ ভ্রমণে এই ধরনের বাধা কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনকেই ব্যাহত করছে না, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকেও পিছিয়ে দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলো এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তবে দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধিকারকর্মীরা এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক