মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় হঠাৎ করে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে চলা ঝড়ো হাওয়া, থেমে থেমে বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত এবং নদীর তলদেশের ঘূর্ণিপাকের কারণে এই আকস্মিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এলাকায় আগে ফেলা জিও ব্যাগগুলো স্থানচ্যুত হয়ে সরে যাওয়ায় ভাঙন প্রক্রিয়া আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনের তীব্রতায় নদীপারের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই ভাঙনে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী তাদের শেষ সম্বল ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীর এই ভয়াল রূপ দেখে বহু পরিবার তাদের আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পুরো এলাকাটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে এবং দ্রুত মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং আরও জোরদার না করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিলেও নদীপারের আতঙ্কিত মানুষগুলোর নির্ঘুম রাত কাটছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, কেবল মুন্সিগঞ্জ নয়, সারাদেশে নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি, যাতে সাধারণ মানুষ এমন আকস্মিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট