বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কখন গোসল করবেন

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১৩ am

কেউ দিনের শুরুতেই গোসল সেরে নেন, আবার কেউ সারাদিনের কাজ শেষে রাতে গোসল করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যগত দিক থেকে কোন সময়টি বেশি উপকারী এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদ অনেক দিন ধরেই রয়েছে।

একদল মানুষ মনে করেন, সকালে গোসল করলে শরীর-মন দুটোই সতেজ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে হালকা গরম পানিতে ১০ মিনিটের গোসল ঘুম ঘুম ভাব দূর করে, আলস্য কাটায় এবং দিনের কাজের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অনেকের মতে রাতের গোসল সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে আরাম দেয় এবং ভালো ঘুম নিশ্চিত করে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে দেখা যায়, সারাদিনে শরীরে জমে থাকা ঘাম, ধুলাবালি এবং ত্বক থেকে নিঃসৃত তেল গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার হয়। রাতে গোসল না করলে এই ময়লা বিছানার চাদর ও বালিশে জমে যেতে পারে, যা ত্বকের জন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করে। ত্বকের খুব ছোট একটি অংশেই হাজার থেকে লাখ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যেগুলো শরীরের তেল খেয়ে বেঁচে থাকে।

এদের মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়া (যেমন- স্ট্যাফিলোকক্কাস) এমন কিছু যৌগ তৈরি করে যা শরীরের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী। এই দিক থেকে বিবেচনা করলে রাতে গোসল করাকে অনেকেই বেশি স্বাস্থ্যসম্মত মনে করেন। তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট প্রিমরোজ ফ্রিস্টোনের মতে, রাতে পরিষ্কার হয়ে ঘুমাতে গেলেও ঘুমের সময় শরীর ঘাম ঝরায়। এমনকি ঠান্ডা আবহাওয়াতেও একজন মানুষ রাতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পর্যন্ত ঘামতে পারেন। সেই সঙ্গে ত্বক থেকে প্রচুর মৃত কোষ ঝরে পড়ে, যা ধুলো-মাইট ও জীবাণুর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও শরীরে দুর্গন্ধ থাকতে পারে।

এই ঘাম ও মৃত কোষ বিছানার চাদর ও বালিশে জমে ছত্রাকের বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন- অ্যাজমা বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই শুধু রাতে গোসল করলেই হবে না, নিয়মিত বিছানার চাদর পরিষ্কার রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বা ঘন ঘন চাদর বদলালে রাতের গোসলের উপকারিতা আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, রাতে গোসলের একটি বড় সুবিধা হলো এটি ঘুমের মান উন্নত করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে প্রায় ১০ মিনিট উষ্ণ পানিতে গোসল করলে দ্রুত ঘুম আসে।

এর পেছনে কাজ করে শরীরের জৈবছন্দ বা সারকাডিয়ান রিদম। ঘুমের সময় ঘনিয়ে এলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে, যা ঘুমের প্রস্তুতির সংকেত দেয়। উষ্ণ পানিতে গোসল এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।

আবার সকালের গোসলের পক্ষের যুক্তি হলো, এতে রাতভর জমে থাকা ঘাম ও জীবাণু ধুয়ে যায়, ফলে দিনটি শুরু হয় আরও পরিচ্ছন্ন ও সতেজ অনুভূতি নিয়ে।

সর্বোপরি সকালে বা রাতে, দুই সময়েই গোসলের নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে। ব্যক্তির জীবনযাপন, শরীরের প্রয়োজন এবং স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করেই উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD