বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন

পাম্পে তেল নিতে আসা যুবককে চড়ালেন ইউএনও

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:১৫ pm

ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে মিল না পাওয়ায় মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। অনলাইনে এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের লাবনা ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানিয় সূত্রে জানা গেছে, চাপারহাট বাজারের প্রদীপ কুমারের মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতেন যুবক নদী। পাশেই লুবানা ফিলিং স্টেশন থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে না পেরে চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলাপ চন্দ্র তার ভাগ্নে জামাই গ্যারেজ মালিক প্রদীপের সহায়তা চাইলে গ্যারেজ মালিক ওই বাইকের ফুয়েল কার্ডসহ ৩শ টাকার তেল নিতে লাইনে পাঠান গ্যারেজ কর্মচারী নদীকে।

সেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবক নদীর হাতের ফুয়েল কার্ডটি নেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান। এ সময় ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে বাইকার যুবকের ছবির মিল না থাকায় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই যুবককে কয়েকটি থাপ্পড় দেন ইউএনও। এ সময় ইউএনওর নির্দেশে ওই যুবককে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলেন দায়িত্বরত পুলিশ।

এই ঘটনায় কিছুক্ষণ পরে স্থানীয়দের তোপের মুখে ঘটনা শুনতে বসেন ইউএনও। তখন অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের গাড়ি ও তার ফুয়েল কার্ড প্রমাণিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নারী ইউএনওর এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় উঠে।

আঘাতপ্রাপ্ত যুবক নদী বলেন, আমি গ্যারেজ মেকানিকের কাজ করি। গ্যারেজ মালিকের আত্মীয় কলেজ শিক্ষক অসুস্থ থাকায় আমাকে টাকা ও ফুয়েল কার্ড দিয়ে তেল নিতে বলেন। মালিকের নির্দেশে কলেজ শিক্ষকের গাড়ি ও কার্ড নিয়ে লাইনে দাঁড়াই। ইউএনও কার্ড চাইলে আমি কার্ড দেই। কার্ড দেখে আমাকে কিছু না বলেই তিনি কয়েকটি থাপ্পড় দিয়ে গাড়িতে তুলেন। পরে আমাকে ছেড়ে দেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি। বিনা অপরাধে আমাকে আঘাত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম। তার গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার ফুয়েল কার্ড ছিল না। কার্ড ছাড়া লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়েছি, পরে চাবি অফিসে এসে নিতে বলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তে তার অভিভাবকরা এলে চাবি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদুল হক প্রধান বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে ওপর মহলে কথা বলেছি। সিদ্ধান্ত আসলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD