বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের লক্ষ্যে ৫১তম বিসিএসের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসি। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পিএসসির ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। দেশের চিকিৎসাসেবা খাতকে আরও গতিশীল ও দক্ষ করে তুলতে এবং সরকারি হাসপাতালের শূন্য পদগুলোতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতেই মূলত এই বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই দেশের হাজার হাজার রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ও মেডিকেল গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ চিকিৎসকরা এই বিসিএসের মাধ্যমে তাদের পেশাগত ক্যারিয়ার গড়ার সোনালী সুযোগ পাবেন। পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চাহিদা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ক্যাডার নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিসিএস পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিলেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেকার যুবসমাজ ও তরুণ পেশাজীবীদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে দেখছে। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা ও ইতিবাচক কর্মপরিকল্পনার কারণে দেশের প্রশাসনিক ও পেশাজীবী ক্ষেত্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরে আসছে। তারেক রহমান বরাবরই দেশের মেধাবী তরুণ সমাজকে মূল্যায়ন করার ওপর জোর দিয়ে আসছেন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থা এবং দলীয়করণের কারণে মেধাবী চিকিৎসকরা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দলীয় লোকজন দিয়ে স্বাস্থ্য খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মেধার মূল্যায়নকে পদদলিত করেছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতারা স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিল। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক