কোলে ১০ মাসের শিশুকন্যা রাইসা মনিকে নিয়ে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে এসেছিলেন ২৯ বছর বয়সী সাথী বেগম। বুকভরা আশা ছিল, স্বামী ২৮ বছর বয়সী সুমন মিয়াকে বুঝিয়ে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে আবারও একটি সুন্দর সংসার শুরু করবেন। কিন্তু স্বামীর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার সেই স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তিনি জানতে পারেন, তার অজান্তেই তাকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ইতোমধ্যে সুমন মিয়া অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরই জেরে স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এত ছোট একটি দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে একজন মা যখন নিজের অধিকার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় স্বামীর দ্বারে উপস্থিত হন, তখন এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।
সাংবাদিকদের কাছে নিজের কান্নায় ভেঙে পড়ে সাথী বেগম বলেন, তিনি তার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব সহ্য করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সুমন তার সঙ্গে যে প্রতারণা করেছেন, তার কোনো বিচার তিনি চান আল্লাহর দরবারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরা বিষয়টির একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক