ভোট চুরির গুরুতর ইস্যুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদ এবং রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের সব সাংসদকে আগামী সোমবার অর্থাৎ ১২ অক্টোবর দিল্লিতে উপস্থিত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দেশজুড়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ইভিএম সংক্রান্ত নানা অভিযোগের মধ্যেই বিরোধী দলগুলো আরও বেশি সংঘবদ্ধ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণতন্ত্র রক্ষা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটতে চলেছে এই সোমবারের কর্মসূচিতে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে সুসংহত রাখতে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলোও এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে। এদিকে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে যে, এই আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক রাজনীতিতে। ইতিপূর্বে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন নানা পটপরিবর্তন ঘটেছে, তেমনি ভারতের রাজনীতিতেও বিরোধী দলগুলোর এই ঐক্য নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের মতো যারা গণতন্ত্রের বরখেলাপ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে সচেতন মহল।
সোমবারের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংসদ চত্বর এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কংগ্রেসের সংসদীয় দলের পক্ষ থেকে সকল লোকসভা ও রাজ্যসভা সাংসদদের উপস্থিত থাকার মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক