সুন্দরবন শুধু বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল নয়, এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু সুরক্ষারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পরিকল্পিত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কার্যকর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্প ঘিরে উপকূলের সামগ্রিক অর্থনীতি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা ও পরিকল্পনার অভাবে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন খাত তার পূর্ণ সম্ভাবনা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংশ্লিষ্ট মহলের নানামুখী ভাবনা এবং বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আবাসন, নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নীতি প্রণয়ন করা গেলে এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল, মোটেল, গাইড সেবা এবং কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিগত দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। এমনকি ফ্যাসিবাদের দোসররা বারবার সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অপচেষ্টা চালিয়েছে এবংকার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতির কারণে এই খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তৎকালীন সময়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছিল।
তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পর্যটন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে। দেশের পর্যটন বান্ধব রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে সুন্দরবন কেন্দ্রিক ইকো-টুরিজম গড়ে তোলা সম্ভব। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে, অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন বাতিঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক