সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ গাড়িচালকদের অদক্ষতা ও অযোগ্যতা এবং পথচারীদের অসচেতনতা। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত অনেক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া ও স্বেচ্ছাচারীভাবে গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের সময়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আধুনিক মহাসড়ক ও সেতু নির্মিত হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সড়ক খাতের লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে আজ এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ত্রুটিপূর্ণ নীতি এবং অনিয়মের কারণে সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। তবে বর্তমান প্রশাসন এই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অদক্ষ চালকদের লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা, পরিবহন মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, কেবল আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, বরং চালক ও পথচারীদের মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। সরকার এই বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সেতুমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক