বরিশালসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলো। বিভাগের ছয় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াইশ ডেঙ্গু রোগী নতুন করে ভর্তি হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট চাপ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি জটিল আকার ধারণ করেছে। মাত্র ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিল ধারণের ঠাঁই নেই শেবাচিম হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও বারান্দায়। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে মেঝেতে বিছানা পেতেও জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা দিনরাত সেবা দিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত ওষুধ, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সামগ্রিক কার্যক্রম। বিশেষ করে মশাবাহিত এই রোগটির চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে আরও নজরদারি ও বিশেষায়িত ইউনিট বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে মশক নিধন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার না করলে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও চিকিৎসকরা। রোগীর ক্রমবর্ধমান এই ভিড় সামলাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক