ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০)। শরীরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত বা পূর্ব শত্রুতার জেরে তানভীর আহমেদ রাব্বির ওপর এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়, যার ফলে তার শরীরের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে এবং পলাতক অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই নৃশংস ঘটনার পেছনের মূল উস্কানিদাতা ও সহযোগীদের নাম বেরিয়ে আসে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে জানিয়েছে যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জোরালো করেছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক