ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, সৌদি আরবে হুথিদের হামলা ও ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান যে, বৈজুড়ে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
মার্কো রুবিও তার যুক্তিতে আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচলিত কঠোর নীতিমালার মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মার্কিন প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের এখন আরও বেশি বাস্তবমুখী ও নমনীয় হওয়ার সময় এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রশাসনের এই ধরনের নীতিনির্ধারণী চিন্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, বর্তমান বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সেটিরই একটি আন্তর্জাতিক রূপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সহনশীল পর্যায়ে নামিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলো নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছে। মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক