গাজীপুরের কালীগঞ্জে পলাশ চন্দ্র শীল (৩০) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘরের ভেতর থেকে ওই যুবকের মরদেহ পাওয়ার সময় তাঁর পাশে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। ওই চিরকুটে মায়ের প্রতি গভীর অভিমান, পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ওপর তীব্র অসন্তোষ এবং স্ত্রী ও মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা হতাশার কথা লেখা ছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত পলাশ চন্দ্র শীল দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ঘটনার দিন সকালে পরিবারের লোকজন তাঁর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাঁর ঝুলন্ত বা নিথর মরদেহ দেখতে পায়। লাশের পাশ থেকে উদ্ধার করা ওই চিরকুটটি পুলিশের হাতে রয়েছে এবং সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে। চিরকুটে ঠিক কী কারণে এমন চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকায় পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পলাশের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে গেছে। স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে রেখে এভাবে যুবকের চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। পুলিশ ঘটনার পেছনের আসল সত্য উদঘাটনে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক