জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি, রাস্তা, বাঁধ কিংবা ফসলের ক্ষয়ক্ষতিতে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, পুষ্টিহীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিচয় হারানো, পেশাগত সংকট এবং সামাজিক বন্ধন ভেঙে যাওয়াও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ক্ষতি। এসব ক্ষতি অর্থ দিয়ে পুরোপুরি পরিমাপ করা সম্ভব নয়, যা নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় ও বরফাবৃত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় যে বিপর্যয় নেমে আসছে, তার বড় অংশই থেকে যাচ্ছে হিসাবের বাইরে। বাস্তুচ্যুত মানুষের মানসিক আঘাত এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা হতাশা ও উদ্বেগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রায় উপেক্ষিত। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি এই অদৃশ্য মানবিক ও সামাজিক ক্ষতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামে জোরালো কোনো ভূমিকা পালন করা হয়নি। অথচ কার্যতই জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে দেশের সাধারণ মানুষ আজ সর্বস্বান্ত।
ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় কেবল বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব না করে, মানুষের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক