যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর থেকেই ক্রমেই তীব্র চাপের মুখে পড়ছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধকে রিপাবলিকানদের এই শোচনীয় নির্বাচনি বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত ওই যুদ্ধে শুরু থেকেই সরব সমর্থন ছিল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের, যা পরবর্তীতে ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নির্বাচনি বিপর্যয়ের এই ফল প্রকাশের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত হেগসেথকে তার নিজ দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দলীয় ভেতরে ও বাইরে তার পদত্যাগ বা নীতি পরিবর্তনের দাবি জোরালো হচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসের একাধিক সদস্য বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হেগসেথের সামরিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকটের এই সময়ে এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের জন্য কতটা সুদূরপ্রসারী ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে হেগসেথের জন্য নিজের অবস্থান ধরে রাখা বেশ কঠিন হবে। রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে নীতিনির্ধারকরাও এখন জনসমর্থন ধরে রাখতে নতুন কৌশল নিয়ে ভাবছেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বর্তমান ভূমিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতির কারণে সৃষ্ট এই চাপ হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। হোয়াইট হাউস অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক