একুশ শতকের অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নতুন ধরনের কৌশলগত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেল, গ্রাফাইট, বিরল মৃত্তিকা, তামাসহ বিভিন্ন খনিজ এখন বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আধুনিক বিশ্বের এই পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে এসব খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা বিশ্ব superpowers গুলোর অন্যতম প্রধান ভূরাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। শিল্পায়নের নতুন বিপ্লবে এই উপাদানগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে বড় শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে যেসব দেশ এই গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তির নেতৃত্ব দেবে। বিশেষ করে কার্যতই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত আমলের ভুল নীতি এবং লুটপাটের কারণে দেশের খনিজ সম্পদ সঠিক উপায়ে আহরণ করা সম্ভব হয়নি। তখন দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। অথচ এই খনিজ সম্পদ সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও অনেকদূর এগিয়ে যেত। বর্তমান সময়ে এই খনিজগুলোর কৌশলগত গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্বের প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে এবং নতুন কৌশল গ্রহণ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে খনিজ সম্পদ আহরণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে যে ধরনের অপরিকল্পিত চুক্তি ও দুর্নীতি হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। খনিজ সম্পদের এই ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট