দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশবাসীর সামনে জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং তা উত্তরণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সার্বিক জ্বালানি খাতের পরিস্থিতির আরও অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি খাতে যে চরম লুটপাট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলেছে, বর্তমান সরকার তা শক্ত হাতে মোকাবিলা করছে। ফ্যাসিস্ট আমলের ভুল নীতি এবং কুইক রেন্টালের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে যে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্নমুখী কৌশল বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়মগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সরকার কেবল আমদানি নির্ভরতা নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ওপরও বিশেষ জোর দিচ্ছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালী খাতে জ্বালানি সংকট চিরতরে দূর হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেগবান হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট