সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে বড় উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৮:১৬ pm

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিনিয়োগ প্রয়োজন। তাই বড় উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হয়েছে এবং সরকার বিশ্বাস করে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

সোমবার (১৮ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্ভব নয়।’

বড় আকারের এডিপি নেওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, ‘টিউবওয়েলের পানি কমে গেলে যেমন পানি ঢেলে চাপ বাড়াতে হয়, তেমনি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের দৃঢ় নেতৃত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে এবং সেই মানদণ্ড পূরণ করলেই কেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ না হলে দায় নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে, যেখানে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সরকারের হাতে থাকা প্রায় এক হাজার ৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব প্রকল্প অপ্রয়োজনীয়, অকার্যকর বা দুর্নীতিপ্রসূত, সেগুলো বাতিল করা হবে। যেসব প্রকল্প আংশিক সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

এডিপিতে সামাজিক খাতে বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব পুরনো প্রকল্প বাদ দেওয়া হবে, সেগুলোর জায়গায় নতুন প্রকল্প নেওয়ার জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

রাজস্ব আহরণ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও কম। তবে এনবিআরের সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করে রাজস্ব বাড়ানো হবে এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে।’

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।’

তিনি জানান, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে নতুন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন ও অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করা হবে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD