চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বা এনসিটি ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের পর থেকেই তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
বন্দর শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বিদেশি অপারেটর নিয়োগের ফলে দেশীয় শ্রমিকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে এবং বন্দরের সার্বভৌমত্ব ও গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুরু হওয়া নানা অনিয়ম ও জনস্বার্থবিরোধী চুক্তির ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে শ্রমিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমিক ইউনিয়নগুলো ইতোমধ্যে জরুরি বৈঠক শুরু করেছে। বন্দর রক্ষা কমিটির ব্যানারে তারা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শ্রমিকদের এই ক্ষোভ ও অসন্তোষের ফলে যেকোনো সময় চট্টগ্রাম বন্দরে বড় ধরনের কর্মবিরতি বা আন্দোলনের মতো কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক