মামলার এজাহারে মাদক সেবন, বহন বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার এক সাংবাদিকের ডোপ টেস্ট করিয়েছে পুলিশ। পরীক্ষার প্রতিবেদনেও তার শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বরগুনা জেলাজুড়ে এই ঘটনা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের হয়রানির শিকার হওয়া নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ডোপ টেস্টটি করানো হয়েছিল। তবে সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, এজাহারে মাদকের কোনো উল্লেখ না থাকার পরও কেন একজন পেশাদার সাংবাদিককে এমন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হলো।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি বরগুনার একটি স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিককে চাঁদাবাজির একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জেরার মুখে তাকে ডোপ টেস্টের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে আসা প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে ওই সাংবাদিকের শরীরে কোনো ধরনের মাদকের অস্তিত্ব নেই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে স্থানীয় সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানির সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক