শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় লিমা আক্তার (২০) নামের এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর পরই নিহতের স্বামী ও শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন আগে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে লিমা আক্তারের সঙ্গে তার প্রেমঘটিত বা পারিবারিক নির্ধারিত পাত্রের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার গভীর রাতে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক কিংবা অন্যান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নববধূর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালিয়ে লিমাকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতের মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। গলায় দাগ কিংবা শরীরের অন্যান্য স্থানে আঘাতের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক