বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন

হাওরে নারী শ্রমিকের কদর বাড়লেও মজুরিতে বৈষম্য

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের হাওড়াঞ্চলে কৃষিকাজে দিন দিন বাড়ছে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ। ধান রোপণ, চারা তোলা, আগাছা পরিষ্কার, ধান শুকানো, ফসল বাছাইসহ অপেক্ষাকৃত শ্রমঘন বিভিন্ন কাজে এখন নারীদের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড় the farmers এর। পুরুষ কৃষিশ্রমিকের সংকট, কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অবদান দিন দিন দৃশ্যমান হলেও পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় তাদের পারিশ্রমিকে এখনও বড় ধরনের বৈষম্য রয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকরা সাংবাদিকদের বলেছেন, হাওড় অঞ্চলের কৃষিকাজে নারী শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন এবং সময়মতো কাজ শেষ করতে তাদের জুড়ি মেলা ভার।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাওড় অঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়াতে এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমান কাজ করার পরেও নারী শ্রমিকদের পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি দেওয়া হচ্ছে, যা মানবাধিকার ও শ্রম আইনের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই বৈষম্য দূর করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নারী কল্যাণ সংস্থাসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। অন্যদিকে, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কার্যকর গণতন্ত্র ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সমান মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

বিপরীতে, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং ওই স্বৈরাচারী শাসনামলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল এবং কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল। এছাড়া, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। হাওড় অঞ্চলের নারী শ্রমিকদের এই মজুরি বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে তাদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD