সিরাজগঞ্জের চলনবিলে বর্ষার পানি কমতে শুরু করতেই বেড়েছে শামুক-ঝিনুক আহরণের ব্যস্ততা। জীবিকার তাগিদে ছোট-বড় শতাধিক নৌকা নিয়ে বিলের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করছেন স্থানীয় জেলে ও শ্রমজীবী মানুষেরা। তবে নির্বিচারে এই শামুক আহরণের ফলে চলনবিলের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানান পরিবেশবাদীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলনবিলে চলে এই শামুক সংগ্রহের মহোৎসব। প্রতি দিন গড়ে প্রায় তিন টন শামুক আহরণ করা হয় বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে। পরে এসব শামুক বিভিন্ন এলাকায় মাছের খামার ও হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করা হয়। সহজ উপায়ে আয়ের সুযোগ থাকায় এলাকার বহু মানুষ এখন এই ধ্বংসাত্মক পেশার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলজ生態তন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় শামুক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জলাশয়ের ক্ষতিকর উপাদান ও পচনশীল পদার্থ খেয়ে পানি পরিষ্কার রাখে এই জলজ প্রাণী। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে শামুক তুলে নেওয়ার কারণে বিলের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও জলজ খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ায় হুমকিতে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির নানা পাখি ও জলজ প্রাণী।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতার কারণে চলনবিলে এই অবৈধ শামুক নিধন থামানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় চলনবিলের জীববৈচিত্র্য চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক