গণভোটের গণরায় কার্যকর করা এবং ঐতিহাসিক জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের সুনির্দিষ্ট দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের জনপদ বগুড়া। শুক্রবার বিকেলে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার খোকন পার্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে এই দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান যে, জনগণের এই রায় ও আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন করার কোনো সুযোগ নেই।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের সাধারণ মানুষ নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। বিগত দিনে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্র এখনও দেশের ভেতরে ও বাইরে অব্যাহত রয়েছে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, গণভোটে দেশের প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ রায় দিয়েছেন। এই বিশাল জনমতকে উপেক্ষা করার দুঃসাহস কেউ দেখালে তার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। জনগণের পবিত্র আমানত এবং তাদের রক্তের সাথে কোনো ধরনের বেঈমানি এ দেশের জনতা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না বলে তিনি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে অবিলম্বে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র কাঠামোর জরুরি সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্য, দুর্নীতি এবং দুঃশাসনের মূলোৎপাটন করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কার্যকর সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যেভাবে দেশ লুটপাট করেছে, তার উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং একই সাথে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে দমন করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত নাগরিক সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বহু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে স্লোগান দেন। সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ এখন আর কোনো ধরনের স্বৈরাচারী শাসন দেখতে চায় না। একটি শোষণহীন, সাম্যবাদী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করার জোরালো দাবি জানানো হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক