কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার নিজের এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবন ও নিরাপত্তার চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ও তাঁর পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে পুলিশের পক্ষ থেকেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাইমা খন্দকার জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ মহল তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে যাওয়া এই রাজনৈতিক পরিবারের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অথচ চরম বিপদের মুহূর্তেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিকট থেকে ন্যূনতম আইনি সহায়তা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুলিশকে বারবার বিষয়টি অবহিত করা সত্ত্বেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক এবং বিএনপি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এহেন গড়িমসি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পরিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও হয়রানির শিকার হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও যদি এমন পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বিএনপি চেয়ারপারসন ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে ড. খন্দকার মোশাররফের পরিবারকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, যে বা যারা এই নিরাপত্তার অন্তরায় সৃষ্টি করছে এবং পুলিশের অসহযোগিতার পেছনে জড়িত রয়েছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক