রংপুরের কাউনিয়ায় সোনালি আঁশ পাটের পাশাপাশি পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন হাট-বাজারে মানভেদে প্রতি মণ অর্থাৎ ৪০ কেজি তোষা ও দেশি পাট ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। পাটের ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি এর উপজাত পাটকাঠি বিক্রির ধুম পড়ায় কৃষকদের আর্থিক লাভ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক দোন অর্থাৎ ২৪ শতক জমির পাটকাঠি বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রামীণ জনপদে ঘরের বেড়া দেওয়া, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার এবং বিভিন্ন কুটির শিল্পের কাজে পাটকাঠির চাহিদা থাকায় এর বাজারমূল্য বেশ চড়া। পাট বিক্রির পাশাপাশি এই বাড়তি আয়নকে কৃষকরা বোনাস হিসেবে দেখছেন, যা তাদের সার ও বীজ কেনার খরচ মিটিয়ে পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাউনিয়া উপজেলায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কৃষকরা পাটের সঠিক দাম না পেয়ে চরম লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তবে বর্তমান সময়ে বাজারে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে চাষিরা তাদের ঘামের সঠিক মূল্য পাচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির ফলে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া এবং শুকানোর কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামীতেও পাটের এই ভালো বাজারদর অব্যাহত থাকবে। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে এবং কৃষিকাজে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। পাট ও পাটকাঠির এই দ্বিমুখী আয় কাউনিয়ার গ্রামীণ জনপদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক