নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে বিকৃতভাবে ও খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই অমানবিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকরা এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসার পর প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে আকস্মিক কাঁচি হাতে নেন। এরপর তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ১৫ জন ছাত্রের মাথার চুল নিজের ইচ্ছামতো এলোমেলোভাবে ও খোপ খোপ করে কেটে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং লজ্জায় অনেকের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের এমন অপেশাদার ও নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, একজন শিক্ষকের কাজ হলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঠিক পন্থায় শাসন করা ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া, কিন্তু এভাবে সবার সামনে তাদের চুল কেটে অপমান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করার সাহস না পায়।
আরববাংলা টিভি