কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও সেজে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২ কোটি ৯০ লাখ বা ১৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান মিলেছে। এই গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইসরাইলের এক নাগরিকসহ মোট তিনজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধের মাত্রা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এই ঘটনাটি তারই একটি ভয়াবহ নজির হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দলগুলোর যৌথ অভিযানে এই চক্রটির সন্ধান মেলে। প্রতারকরা অত্যন্ত সুকৌশলে ডিপফেক এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে শীর্ষ নির্বাহীদের কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করত। এরপর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি ও গোপনীয় লেনদেনের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করত। আধুনিক প্রযুক্তির এই অপব্যবহার কেবল করপোরেট বিশ্বকেই হতবাক করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক নতুন ও বড় ধরণের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভীতি ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের সাথে আন্তর্জাতিক কোনো বৃহৎ অপরাধ চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দারা নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের অত্যাধুনিক সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে আরও কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল চালুর তাগিদ দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক