চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি হওয়ার অতুলনীয় ভৌগোলিক সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সন্দ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল বা বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশিষ্টজনেরা। সম্প্রতি সন্দ্বীপ উপজেলায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নৈকট্যকে কাজে লাগাতে পারলে এই অঞ্চলটি দেশের একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সন্দ্বীপে একটি আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন সন্দ্বীপের স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে তেমনি নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরসহ বৃহত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃশ্যপট বদলে যাবে। সন্দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে একে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার এই দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে উপকূলীয় এই জনপদ বরাবরই অবহেলিত ছিল এবং কার্যকর কোনো মেগা প্রকল্প এখানে গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সন্দ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। তারা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অতি দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করে সন্দ্বীপে অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা উচিত। সন্দ্বীপের সার্বিক উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এই শিল্পাঞ্চল স্থাপন এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাংবাদিকরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক