এই প্রথমবারের মতো ইরান শুধু অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের দাবিই করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ত্র রপ্তানির কথাও জোরালোভাবে তুলে ধরছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে তেহরানের এই নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নানা ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ মোকাবেলা করে তেহরান যেভাবে নিজেদের সামরিক শিল্পকে এগিয়ে নিয়েছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি জানান যে, বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তির সমরাস্ত্র তৈরিতে ইরান এখন প্রথম সারির দেশগুলোর সমকক্ষ। বিভিন্ন বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি ড্রোন, মিসাইল ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইরানের এই প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতি বৈশ্বিক অস্ত্র বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা স্থাপত্যে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তেহরান এখন কেবল নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাব বিস্তারে পুরোপুরি সফল হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক