প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার নেই, স্বাধীনতার সময় ছিল বেকারত্ব, আবাসনসংকট, জাতিগত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এমনকি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা নিয়েও ছিল সংশয়। অথচ মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে সিঙ্গাপুর পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং আধুনিক নগরায়নের এক অনন্য মডেলে।
১৯৬৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর সিঙ্গাপুরের সামনে পথ চলা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও কন্টকাকীর্ণ। সীমিত ভূখণ্ড এবং কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও দেশটির দূরদর্শী নেতৃত্ব সুশাসন, কঠোর দুর্নীতিবিরোধী নীতি এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধন করে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য তারা উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে।
বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশটির এই রূপান্তর কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গল্পই নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে কীভাবে প্রতিকূলতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, এটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আধুনিক বন্দর ব্যবস্থাপনা, উন্নত অবকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ফলেই আজ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সিঙ্গাপুর এক অবিসংবাদিত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক